নদীর পাড়ে বসে ছিল ইফতি আর তানিয়া। আকাশে সূর্য ধীরে ধীরে অস্ত যাচ্ছে, চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে মিষ্টি সোনালী আলো। নদীর শান্ত ঢেউগুলো একেকবার আসছে আর চলে যাচ্ছে, ঠিক যেন তাদের জীবনের নানা মুহূর্তের মতো—কখনো কাছে আসা, আবার কখনো দূরে যাওয়া।
তানিয়া লাল শাড়িতে মোড়ানো, হালকা বাতাসে তার চুলগুলো উড়ছে। সে হেসে দূরে তাকিয়ে আছে, ইফতির হাত তার হাতে ধরা। ইফতির চোখ ছিল তানিয়ার দিকে—মুগ্ধতায়, ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। তাদের সম্পর্কটা একদিনে গড়ে ওঠেনি। বহু স্মৃতি, হাসি-কান্না আর সঙ্গ দিয়ে তৈরি হয়েছে তাদের ভালোবাসা।
"তুমি জানো, তানিয়া, এমন দিনের জন্য আমি সবসময় অপেক্ষা করতাম," ইফতি আস্তে করে বলল।
তানিয়া মুচকি হেসে তার দিকে তাকাল, "কেমন দিন?"
"এই দিন, যেখানে শুধু আমরা আর এই নদীর পাড়। এখানে কোনো ব্যস্ততা নেই, কোনো শোরগোল নেই, শুধু তুমি আর আমি।"
তানিয়া একটু হেসে বলল, "সবকিছু এতটা সহজ হলে হয়তো জীবন অন্যরকম হতো।"
ইফতি তার দিকে আরও কিছুটা ঝুঁকে বলল, "আমাদের ভালোবাসা তো সহজ নয়, কিন্তু এটা সুন্দর। এটা আমাদের পৃথিবী, যেখানে তুমি আর আমি একসাথে।"
তানিয়া চুপ করে রইল, কিন্তু তার মনের গভীরে সে ইফতির কথাগুলো অনুভব করল। তাদের সম্পর্কের প্রতিটি মুহূর্ত এই নদীর শান্ত ঢেউয়ের মতোই ছিল—মাঝে মাঝে উথাল-পাথাল, আবার কখনো গভীর প্রশান্তি।
সূর্য ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ অস্ত গেল, আকাশে ছড়িয়ে পড়ল গাঢ় কমলা আর বেগুনি রঙের মিশ্রণ। তানিয়া তখন ধীরে ধীরে ইফতির কাঁধে মাথা রাখল। দুজনেই জানত, তাদের এই ছোট্ট মুহূর্তগুলোই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
তারা বসে রইল, হাত ধরাধরি করে, জীবনের গল্প বুনতে বুনতে।
.webp)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন